| জীবনসঙ্গীর যে বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলী আশা করেন |
একজন দ্বীনদার, তাকওয়াবান মুমিন পুরুষ। একজন মুমিন পুরুষের মধ্যে যা যা বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকা দরকার সেসব বৈশিষ্ট্যগুলো অর্জনে স্বেচ্ছায়, নিজে থেকেই অনেক তৎপর থাকতে হবে।
-মডারেট মুসলিম যাতে না হোন...!
উত্তম আখলাক, চরিত্র, আচরণের অধিকারী এবং অর্জনে তৎপর (মোটেও বদমেজাজী বা রাগী স্বভাবের যাতে না হোন)।
গোপনে এবং প্রকাশ্যে যাতে আল্লাহকে ভয় করে চলেন। নিজের উপর আরোপিত ফরজ এবং ওয়াজিব বিধানগুলো যাতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আদায় করেন এবং এ ব্যাপারে কোনভাবেই ছাড় দেওয়ার বা শীতিলতা দেখানোর মানসিকতা না রাখেন! সালাত যাতে নিয়মিত (বিনা ওজরে) জামায়াতে আদায়ের চেষ্টা করেন, জামায়াতে নিয়মিত থাকার জন্য তৎপর থাকেন।কুরআন সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনায় আগ্রহী হবেন।ব্যক্তিত্ববান, ম্যাচিউর এবং স্ট্রং পার্সোনালিটির অধিকারী। ম্যানলি ম্যান যাতে হোন, অবশ্যই কর্মক্ষম হতে হবে, অলস যাতে না হোন! কারণ একজন মুমিন কখনোই অলস হতে পারে না!
পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় হালাল রুজি আয়ে সচেতন হোন এবং পরিশ্রমী হোন।
স্ত্রীর প্রতি প্রচুর গাইরতওয়ালা..! স্ত্রীর পর্দা রক্ষা করাটা, পর্দা রক্ষায় সার্বিক সাহায্য করাটা যাতে ওনার নিজের উপর আরোপিত মহা দায়িত্ব হিসেবে নেন! এবং এক্ষেত্রে যেকোন পরিস্থিতির চাপে পড়েও, ছাড় না দেওয়ার মানসিকতা রাখেন! কোনভাবেই যাতে এমন না হয়, বিয়ের আগে আশ্বাস দিলেন, আর বিয়ের পর সেই হক্বটা আদায় গড়িমসি করছেন। পর্দা পালনে শীতিলতা দেখাচ্ছেন, স্ত্রীকে আদেশ বা অনুরোধ করছেন যাতে সে পরিস্থিতি গুলোর সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয় বা ছাড় দেয়! দয়া করে এমন প্রতারণামূলক আচরণের লক্ষ্য থাকলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন না! কেননা আমি আমার পর্দাতে, ফরজ বিধান পালনে কোনরূপ ছাড় দিতে পারবো না! আমি নিজের পরিবারের সাথেও একটা সময়ে পর্দা পালনে অনেক যুদ্ধ করেছি! ইভেন সেকুলার প্রতিষ্ঠানে পড়াকালীন সময়ে পর্দা পালনে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। সেইম সংগ্রামগুলো আমি আমার জাওযের কাছে গিয়েও আবার করতে পারবো না! আমি আমার দুনিয়া আখিরাত শেষ করতে পারবো না। জাওযের পরিবারের অন্যরা এক্ষেত্রে সাপোর্টিভ না হলেও জাওযের সাপোর্টিভ হওয়াটা অত্যন্ত জরুরী! এক্ষেত্রে শক্তভাবে উনার স্ত্রীর পাশে অবস্থান করাটা উনার দায়িত্ব...! শুধুমাত্র স্ত্রী নন, ওনার মা, বোন এবং ওনার অন্যান্য মাহরাম নারীদের পর্দা রক্ষায়ও যাতে খুব সচেতন হোন। তাদের পর্দা পালনে উদ্বুদ্ধ করেন। পাশাপাশি ওনি নিজেও যাতে কঠোরভাবে ওনার নজরের হেফাজতের চেষ্টা করেন! পরনারীর সাথে যথাসম্ভব সর্বোচ্চ পর্দা মেইনটেইন করার চেষ্টা করেন। (অবশ্যই নিজে থেকে, স্বেচ্ছায় এবং আল্লাহকে ভয় করে!) শুধুমাত্র স্ত্রীর ভয়ে বা তার মন রক্ষার জন্য বা স্ত্রীর প্রেশারে পড়ে ঘরে বাইরে নন-মাহরাম মেইনটেইন করছেন বা বাধ্য হয়ে করছেন... কোনভাবেই যাতে এমন মনোভাব না হয়! ওনাকে মাথায় রাখতে হবে, আমার মতো ওনারও পর্দা মেইনটেইন করা, দৃষ্টির হেফাজত করা ওনারও ওনার রব্বের আরোপিত ফরজ বিধান! ওনাকে অবশ্যই এটা পালন করতে হবে! অনলাইন-অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই এটি।
বিয়ের আগে অবশ্যই বিবাহ, দাম্পত্যজীবন, স্ত্রীর হক, ফিমেইল মাইন্ড/সাইকোলজি, ফ্যামিলি মেইনটেইন এবং এবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ বেসিক স্টাডিটুকু অবশ্যই থাকতে হবে। কেননা বিয়ের মতো এতো গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়ে কোন প্রকার প্রস্তুতি না নিয়ে, বেসিক স্টাডিটুকু না করে, শুধুমাত্র ফ্যান্টাসি নিয়ে এই জীবনে প্রবেশ করা মারাত্মক বোকামি হতে পারে...! (আল্লাহ হেফাজত করুক)। সত্যি কথা বলতে, আমি নিজেও এই বিষয়টা মাথায় রেখে এই প্রস্তুতি অর্জনে চেষ্টা করছি (আল্লাহ কবুল করে নিক)। আমার ক্ষেত্রে এই প্রস্তুতি অর্জনে প্রতিকূলতা অনেক বেশি! তারপরও আমি চেষ্টা করছি। ওনার যদি এখনও এই বিষয়ে নলেজ না থাকে তাহলে ওনি যাতে অতি শীঘ্রই নিজ দায়িত্বে একটা নির্দিষ্ট লেভেলের স্টাডি করে নেন (বিবাহের পূর্বেই)।
ওনি যাতে প্রচুর দায়িত্বশীল হোন। দায়িত্ব-জ্ঞানহীন পুরুষদের আমি খুব অপছন্দ করি। আমি আমার পিতাকে সবসময় আমাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দায়িত্ববান হিসেবে পেয়েছি। একজন পুরুষ কীভাবে নিজের সীমিত আয়, শক্তি-সামর্থ্য, আন্তরিকতা দিয়ে নিজের স্ত্রী, সন্তান, মা, বোন, আত্মীয়সহ অন্যদের হক আদায়ে, দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ তৎপর থাকতে পারে, তা আমি আমার আব্বুকে দেখে বুঝেছি, আলহামদুলিল্লাহ।
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, "প্যারেন্টিং" বিষয়ে স্টাডি, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক। যদিওবা আমি এই বিষয়ে স্টাডির সুযোগ পাইনি বা এখনো ওভাবে শুরু করা হয়নি। সন্তান প্রতিপালনে পিতা মাতা উভয়ের-ই একইসাথে এই জ্ঞান অর্জন করা জরুরি। তাই আমার ইচ্ছে আছে বিয়ের পর আমার জাওযসহ একসাথে এ বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করবো, প্রয়োজনে কোর্স করবো, ইন শা আল্লাহ। তাই ওনিও যাতে এ বিষয়ের মাহাত্ম্য এবং গুরুত্ব বুঝতে পারেন এবং আগ্রহী হন।
-দ্বীনির খেদমত এবং দাওয়াতি মনোবল যাতে নিজের মধ্যে তৈরি করেন। রব্ব যাতে তাকে দ্বীনের দায়ী হিসেবে কবুল করে নেন, এজন্য প্রয়োজনীয় মেহনতটুকু এবং দোয়া করেন। এক্ষেত্রে সর্বাবস্থায় আমাকে পাশে পাবেন তিনি, ইন শা আল্লাহ। -ওনি যাতে অনেক সাহসী হোন, শাহাদাতের তামান্না অন্তরে ধারণ করেন (আল্লাহ কবুল করে নিক) -নিজের আপন পিতা-মাতা ভাই-বোন সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য, আত্মীয় স্বজনের হক আদায়ে সচেষ্ট হোন। ওনাদের প্রতি রেসপন্সিবল হোন। পরিবারের সকলের দ্বীন পালনের বিষয়ে ওনি কতটুকু ভূমিকা রাখছেন সে বিষয়ে সচেতন হোন, আত্মা -পর্যালোচনা করেন। কেননা এসব বিষয়ে তাকে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
-স্ত্রীর প্রতি কেয়ারিং, সচেতন, কো-অপারেটিভ, হেল্পিং এবং সাপোর্টিভ মনমানসিকতার যাতে থাকেন। স্ত্রী ভুল করলে সেটা ভালোবাসা এবং সহমর্মিতার সাথে, উত্তম নাসিহতের মাধ্যমে শুধরে দেন। স্ত্রীকে পিতা-মাতা, ভাই বোন বা অন্যদের সামনে শাসন বা অপমান না করেন। হিকমাহ অবলম্বন করে প্রয়োজনে পারসোনালি নিজেদের সমস্যা গুলো আলোচনা করে সমাধ করে নেওয়ার মতো বিচক্ষণতা থাকতে হবে। স্ত্রী এবং পিতা- মাতা ভাই বোনের মাঝে হিকমাত অবলম্বন কবে ইনসাফ করতে সক্ষম হন।
আমি ছোট বেলায় যৌথ পরিবারে বড় হলেও ক্লাস সিক্স থেকে আমি,মা,বোন,বাবা শহরে থাকি।তাই যদি ছেলের পরিবার যৌথ হয় তাহলে যাতে ওনারা আমাকে পর্দা করতে সহযোগিতা করেন কারন একা একা একটা পরিবারে দ্বীন মেনে চলা সম্ভব না।আমি চেষ্টা করবো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাদের হক আদায় করার।
আমার মা-আব্বু আমাকে শিখিয়েছেন কিভাবে পরিবারে,বিশেষ করে শ্বশুর-শাশুরির হক আদায় করতে হয়। আমার মাও নিজে শ্বশুরবাড়ির মানুষের প্রতি যে আন্তরিকতা ও সহযোগিতার মনোভাব রেখে চলেছেন, আমি তার কাছ থেকে সেই শিক্ষা পেয়েছি। তারা কখনোই এমন কিছু শিখাননি যেখানে হাসবেন্ডের পিতামাতাকে অসম্মান করা যাবে বা পরিবারের সদস্যদের প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করা হবে। আমি সর্বদা তাদের আদর্শ অনুসরণ করতে চেষ্টা করি।
তবে, আমি জানি আমি একজন মানুষ, এবং সকল দিক থেকে নিখুঁত নয়। মা মোটামুটি ঘরের সব কাজ করেন সেজন্য সেভাবে ফ্যামিলি মেইনটেইন করার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা আমার নেই। ঘরের কাজকর্মে আমার তেমন দক্ষতা নেই, সুতরাং কিছু কিছু জায়গায় ভুল হতে পারে। এ কারণে আমি চাই আমার স্বামী যদি বুঝদার, সাপোর্টিভ এবং সহানুভূতির মনোভাব নিয়ে আমার পাশে দাঁড়ান, তবে তা আমার জন্য অনেক সাহায্যকারী হবে। একইভাবে, আমি চাই তিনি হিকমাহ ও বিচক্ষণতার সাথে চলতে পারেন এবং আমাদের সম্পর্ক এবং পরিবারে সবকিছু সুন্দরভাবে ব্যালেন্স করতে সহায়তা করবেন।
বিবাহের পর আমি আমার পরিবারের সদস্যদের সাথে দায়িত্বশীল আচরণ করতে চাই এবং সবসময় তাদের হক আদায়ে সচেতন থাকতে চাই।
-আমি চাই আমার জাওয আমার আব্বু-আম্মু এবং পরিবারের সাথে উত্তম আচরণ করেন এবং সম্মানজনক ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেন। ওনাদের শারীয়াহর বিষয়ে জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা থাকার কারণে অনেক ক্ষেত্রে ভুল কথা বলে ফেলতে পারেন। এক্ষেত্রে ওনাদের অসম্মানজনক বা আঘাত করে কথা না বলে হিকমাহ এবং বিচক্ষণতার সাথে উত্তম আচরণের মাধ্যমে ওনাদের ভুলটা শুধরিয়ে দিবেন, ইন শা আল্লাহ। কেননা আমার প্যারেন্টসও উত্তম নাসিহাহ পেলে নিজের ভুল শুধরে নিতে আগ্রহী। -আমাকে আমার আম্মু-আব্বু এবং নিজ পরিবারে হক আদায়ে সহযোগীতার মনোভাব রাখেন এবং সাপোর্টিভ হোন, পাশে থাকেন।
-বিয়ের পূর্বের "পাত্রী দেখাদেখি" এই স্টেজ এ পাত্র নিজে এবং মহিলারা ছাড়া আর কোন নন-মাহরাম পাত্রীকে দেখতে পারবেন না (পাত্রের পিতাও না)!! এটা বেশ গুরুত্বের সাথে আগেই বলে দেওয়ার কারণ, ওই সময় যাতে ওনার পরিবারের এটাকে কেন্দ্র করে আমার পরিবারের সাথে কোনরূপ দ্বন্দ না হয় বা চাপ প্রয়োগ না করেন! তখন দেখা যাবে আমার পরিবারও হয়তো আমাকে প্রেশারাইজ করছে! -বিয়ের এবং বিয়ের পরবর্তী সময়ে পাত্র এবং পাত্রের পরিবার যাতে আমার পরিবারের কাছে ডিরেক্টলি এবং ইনডিরেক্টলি কোন কিছু দাবি বা আশা না করেন। আমার পরিবার যদি নিজ থেকে কিছু দিতেও চাই তাহলেও পাত্র যেন নিজে থেকে সম্মানের সহিত তা গ্রহণ না করার দৃঢ় মানসিকতা রাখেন।
-সর্বোপরি আমি এমন একটা পরিবারের স্বপ্ন দেখি, যেখানে সর্বদা একটা দ্বীনি পরিবেশ বিরাজমান থাকবে। পরিবারের সকলে দ্বীন পালনে উদগ্রীব থাকবে! পরিবারে দ্বীনি হালাকাহ, তালীম চালু থাকবে! -আমার সংসারটাকে যেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা দুনিয়ার বুকে এক টুকরো জান্নাত বানিয়ে দেন, ইন শা আল্লাহ.....! -আমি স্বপ্ন দেখি, আমার জীবনসঙ্গী আমার দ্বীন পালনে সর্বাত্মক সঙ্গী হবেন, আমার অর্ধেক দ্বীন পূরণ করবেন! তিনি আমার হাত ধরে এমন একটা পথ পাড়ি দিবেন, যে পথটা আরশের রব্বের ইশারায় সুদূর জান্নাতে গিয়ে মিশেছে....ইন শা আল্লাহ! -আমার সন্তানরা যেন দ্বীনের রক্ষক হয়। আমার জীবনের একমাত্র সার্থকতা হবে!আমার রব যেন আমাকে উম্মাহর আদর্শ নারীদের ন্যায় আদর্শ স্ত্রী, আদর্শ মা এবং আদর্শ সন্তান হওয়ার তাওফিক দেন.... আমিন!
আরো কিছু কথা বলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি।এটা আমার জীবনের একটি খন্ডচিত্র, যেখানে আমি নিজেকে খুঁজে পেতে চেষ্টা করছি। আমার ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারের মাঝামাঝি সময়ে দ্বীনের সঠিক বুঝ আসে। এর আগ পর্যন্ত আমি মেয়েদের স্কুলে পড়াশোনা করতাম। আমার এসএসসি এর জিপিএ খারাপ থাকার কারণে বাবার কোটায় ক্যান্টনমেন্টে ভর্তি হয়েছি। শুরু থেকেই আমি ছিলাম ইন্ট্রোভার্ট এবং ঘরকুনো, কিন্তু ক্লাস নাইনে ওঠার পর নিজেকে সবার সঙ্গে মিশিয়ে চলার চেষ্টা করি। কো-এডুকেশনে আগে না থাকার কারণে প্রথমে খুবই আনইজি লাগত।
আমার পরিবার অনেক বেশি কনজারভেটিভ, আর বাবাও ছোট থেকে অনেক স্ট্রিক ছিলেন। তিনি কখনো ছেলেদের সঙ্গে মিশতে দিতেন না, এমনকি কথা বলার অনুমতিও ছিল না।
করোনা ব্যাচ হওয়ার কারণে কলেজে তেমন যেতে হয়নি। যখনই কলেজে যেতাম, বোরকা ও নিকাব পরতাম, কিন্তু ড্রেস কোডের কারণে কলেজে গিয়ে খুলে ফেলতাম। কলেজে প্রথমবার নিকাব পরতে গিয়ে আমি অনেক অস্বস্তি অনুভব করতাম, কারণ আমার বাবা তখন রিটায়ার্ড হননি, এবং তিনি নিকাব এবং বোরকা পরা পছন্দ করতেন না। আমাদের পরিবারে পর্দা, মাহরাম-নন মাহরাম বিষয়গুলো নিয়ে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। পরিবারে এগুলা আগে কখনো কেউ করেনি।পরিবারে কেউ প্রথমে আমার ব্যাপারগুলো বুঝতে পারেনি, কারণ আমি সবকিছু গোপনে করতাম এবং নিজেকে লুকিয়ে রাখতাম।
২০২১ সালে আমি কোনো ফোনও ছিল না, অর্নাসে উঠার পর প্রথম ফোন পাই। তখনই আমার দ্বীনি পড়াশোনা শুরু করার সুযোগ পাইনি। এদিকে, এডমিশন পরীক্ষার জন্য অনেক চাপ ছিল। দাদুর মৃত্যু, চাচ্চুর বিয়ে, ফুফির বিয়ে, দুই চাচির বেবি হওয়ার মতো অনেক কাজ ছিল বাসাতে। এছাড়া আমি কোনো একাডেমিতেও ভর্তি হতে পারিনি। ভার্সিটিতে পড়াশোনার খরচ বাবা বহন করতেন, তাই সেখানে দ্বীনি পড়াশোনার বিষয়টি আমি আলোচনা করতে পারতাম না। আমি জানতাম না যে সহশিক্ষা হারাম। তখন আমার কাছে কোনো দ্বীনি বন্ধু, বই বা কোনো সহায়তা ছিল না।
পরিবারের সবাই আমাকে ডাক্তার হওয়ার ব্যাপারে অনেক বেশি আগ্রহী ছিলেন, কিন্তু আমি জানতাম, মেডিকেল সেক্টর দ্বীনের সাথে খাপ খাইয়ে চলা কঠিন। সেই জন্য ভার্সিটিতে ভর্তি হতে চাইছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, ভার্সিটিতে চান্স পাওয়ার পর বাবা পর্দা এবং মাহরাম-নন মাহরামের প্রতি অনেক সহনশীল হয়েছিলেন। তবে, বিয়ের পর আমি কো-এডুকেশন ছেড়ে দিতে চাই এবং এটি আমার বিয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য। আমি জানি, আমার পরিবার এখন এই বিষয়গুলো বুঝতে পারবে না, বরং আমার পর্দা নিয়ে হয়তো আরও সমস্যা তৈরি করবে। তাই আমি বিয়ের পর সহশিক্ষা ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে আমার স্বামী ও তার পরিবারের একান্ত সহযোগিতা কামনা করি। আশা করছি, তারা আমাকে বুঝবে এবং এই বিষয়ে আমার সিদ্ধান্তকে সম্মান করবে।
এটি আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আমি মনে করি বিয়ের মাধ্যমে আমি জীবনে পরিপূর্ণভাবে দ্বীনের পথে চলার সুযোগ পাবো। |